বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস: সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। রাজবাড়ীর পান্না চত্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ব্যবসায়ী নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের ঢল। সুন্দরবনের গহীনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র ব/ন্দু/কযু//দ্ধ, জি//ম্মি ৫ জেলে উ/দ্ধা/র সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশু বাল্যবিবাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাল্যবিবাহমুক্ত কালীগঞ্জ উপজেলায় শিশুবিবাহ, মুচলেকা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৭ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল যন্ত্রাংশ জব্দ সাতক্ষীরার রাজার বাগান দারুস সালাম মসজিদে ইসলামিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনা বিভাগীয় কমিউনিটি পুলিশিং সুধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে
Notice :
'সাপ্তাহিক সূর্যের আলো' পত্রিকা সম্প্রতি চালু হতে যাচ্ছে অনলাইন সংস্করণ surjeralo.net। উক্ত পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে কাজ করতে ইচ্ছুক কিছু মেধাবী, সাহসী ও উদ্যোমী সংবাদকর্মী আবশ্যক। বিস্তারিত - ০১৭৫৪-২৪১৩৮৮, ০১৭৬৭-৪১৫১৩১, ০১৭১২-৩০৩৪১৫।

শিক্ষক যখন শুধু চাকরিজীবী নন: গড়েন আগামীর সোনার মানুষ।

মোঃ সাইদুল বাসার / ১২৭ Time View
Update : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

শিক্ষক যখন শুধু চাকরিজীবী নন: গড়েন আগামীর সোনার মানুষ।
শিক্ষক যখন শুধু বেতনভোগী নন
প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস এলে আমাদের সামনে একটা গভীর প্রশ্ন জেগে ওঠে—আমরা কি সত্যিই শিক্ষককে শুধু একজন চাকরিজীবী হিসেবে দেখি, নাকি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান কারিগর হিসেবে? ২০২৬ সালের এই দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ১৯৬৬ সালের সেই ঐতিহাসিক সুপারিশের ষাট বছর পূর্ণ হচ্ছে, যেখানে শিক্ষকের মর্যাদা, অধিকার, দায়িত্ব ও কর্মপরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সুপারিশ আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ শিক্ষকের অবস্থান শুধু ব্যক্তিগত নয়—একটি জাতির শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এবারের প্রতিপাদ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—
শিক্ষকদের পাশে। পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ৬০ বছর।
শিক্ষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু প্রশংসা বা ফুলের তোড়া দিয়ে নয়। প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, সম্মানজনক কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাধীনতা এবং সমাজে যথাযথ স্বীকৃতি। কারণ শিক্ষক যদি নিজে নিরাপদ, সম্মানিত ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল না থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে শিক্ষার্থীর মনে আত্মবিশ্বাস, কৌতূহল ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলবেন? শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব, যেখানে একজন মানুষ অন্য মানুষের চিন্তা ও চরিত্র গঠনে সরাসরি প্রভাব ফেলেন।
আজকের বাস্তবতা বদলে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্যের সহজলভ্যতা বাড়িয়েছে। শিক্ষার্থী এখন অনেক কিছু নিজেই জেনে নিতে পারে। ফলে শিক্ষকের কাজ শুধু তথ্য সরবরাহ করা নয়। তাকে শেখাতে হয় কীভাবে চিন্তা করতে হয়, তথ্য যাচাই করতে হয়, সৃজনশীল হতে হয় এবং প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অভিবাসন ও সংঘাতের প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে থাকে। শিক্ষককে তখন পাঠদানের পাশাপাশি মানসিক সহায়ক, সহানুভূতির আশ্রয় এবং নিরাপদ পরিবেশের রক্ষক হয়েও উঠতে হয়। এই বহুমাত্রিক দায়িত্বের চাপ অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে।
বেতন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেতনই একমাত্র বিষয় নয়। সমাজে শিক্ষকতা পেশার যে মর্যাদা থাকা উচিত, তা এখনো অনেক জায়গায় অনুপস্থিত। কাজের চাপ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার অভাব, ক্যারিয়ার উন্নয়নের সীমিত সুযোগ এবং সামাজিক স্বীকৃতির ঘাটতি অনেক যোগ্য মানুষকে এই পেশা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ করলেই সংকট মিটবে না। যারা আছেন, তাদের ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষকতাকে আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে তুলে ধরা—দুটোই সমান জরুরি। শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় তাই শুধু সংখ্যা বাড়ানো নয়, গুণগত মর্যাদা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নও জরুরি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই সত্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা ও প্রণোদনা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু এর পাশাপাশি প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন—প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, কর্মপরিবেশের উন্নতি এবং শিক্ষকদের কণ্ঠস্বরকে নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া। শিক্ষক যদি নিজে যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস শুধু স্মরণের দিন নয়। এটি দায়িত্ব নেওয়ার দিন। শিক্ষার মান বাড়াতে হলে শিক্ষার্থীর জন্য সুযোগ তৈরি করলেই হবে না। যিনি সেই শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেন, তার জন্যও মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিক্ষক যখন শুধু চাকরিজীবী থাকেন না—যখন তিনি সমাজের সম্মান, রাষ্ট্রের সমর্থন ও শিক্ষার্থীর আস্থা পান—তখনই তিনি আগামীর মানুষ গড়ে তোলেন। সেই মানুষই একদিন দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই আজকের দিনে শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানো মানে ভবিষ্যতের পাশে দাঁড়ানো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
add
add