ভূমি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ২০২৬ সাল থেকে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আর আদালতে মামলা করা যাবে না—এমন সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ভূমি আইনের ইতিহাসে এক বড় মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত মামলা চিরতরে বাতিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই আদালতগুলো রেকর্ড সংশোধনের কোনো মামলা গ্রহণ করবে না। বর্তমানে যেসব মামলা চলমান রয়েছে, সেগুলো ২০২৫ সালের শেষের মধ্যে বা ২০২৬ সালের শুরুতেই দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনে আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
এতদিন সিএস, আরএস, বিএস, সিটি জরিপসহ পুরোনো এনালগ পদ্ধতির খতিয়ানে ভুল সংশোধনের একমাত্র পথ ছিল আদালতে মামলা। এতে ভূমি মালিকদের বছরের পর বছর ভোগান্তি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হতো। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি দেওয়ানী মামলা চলমান, যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত।
আসছে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (BDS)
পুরোনো এনালগ রেকর্ড ব্যবস্থার পরিবর্তে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (BDS)—একটি শতভাগ ডিজিটাল ও নির্ভুল রেকর্ড ব্যবস্থা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভূমি উপদেষ্টা ও ভূমি সচিব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, BDS জরিপে প্রতিটি জমির দাগ, খতিয়ান, দলিল ও পরিমাণ নির্ভুলভাবে মালিকের নামে নথিভুক্ত হবে, যাতে ভবিষ্যতে রেকর্ড ভুলের অভিযোগ উঠবে না এবং আদালতে যাওয়ার প্রয়োজনও থাকবে না।
চলমান মামলায় নতুন নিয়ম
চলমান রেকর্ড সংশোধন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ—
সাধারণ মানুষের জন্য কী অর্থ বহন করে?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে—
২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশব্যাপী বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মৌজা পর্যায়ে একযোগে BDS জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। ভূমি মালিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
করণীয় কী?
যাদের রেকর্ডে বড় ধরনের ভুল রয়েছে এবং মামলা করা জরুরি, তাদের ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আদালতে মামলা করে নিষ্পত্তি করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। কারণ ২০২৬ সাল থেকে নতুন ডিজিটাল রেকর্ড কার্যকর হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, রেকর্ড সংশোধনের মামলা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এটি ভূমি ব্যবস্থাপনায় ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জনদুর্ভোগ কমানোর একটি সাহসী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবায়নে এই ডিজিটাল জরিপ কতটা নির্ভুল ও কার্যকর হয়।