অনলাইন ডেস্ক: বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃৃত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। এ সময় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার আইন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এজন্য একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার; যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল দ্রুতই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে; যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি ও আধুনিক লাইভস্টক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।