স্টাফ রিপোর্টারঃ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের মাননীয় প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় সাতক্ষীরা লেকভিউ কনভেনশন হলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, পর্যটন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নাভারণ থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, খুলনা থেকে চুকনগর হয়ে সাতক্ষীরা-ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ এবং ভোমরা থেকে খুলনা-যশোর ও নাভারণ থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা। একই সঙ্গে সাতক্ষিয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বিনেরপোতা থেকে আশাশুনি হয়ে বাকাল চেকপোস্ট পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানানো হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলার সকল নদ-নদী ও খাল পুনঃখনন এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা, পর্যটকদের জন্য মোটেল নির্মাণ এবং জেলার শাক-সবজি, আম ও ফলমূল সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণের দাবিও রয়েছে। শিক্ষা খাতে সাতক্ষীরায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি কলেজ স্থাপন, পাটকেলঘাটা থানাকে উপজেলা ঘোষণা, তালা ও কালিগঞ্জে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা এবং প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সাতক্ষিয়ায় ক্রীড়া পল্লী বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম ও শিশু পার্ক স্থাপন, সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া এবং মডেল মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। স্বাস্থ্য খাতে জেলার সকল হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত, ভোমরা স্থলবন্দরে হাসপাতাল নির্মাণ এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল হাসপাতালকে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে আধুনিকায়নের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় সরকারি কবরস্থান নির্মাণের দাবিও রয়েছে। নগর উন্নয়নে প্রাণসায়ের খাল পুনঃখনন, দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বাইপাস সড়কের পাশে স্থানান্তর, প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ এবং ভোমরা বন্দরের জিরো পয়েন্টে গেট নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দাবি জানানো হয়।
আরও রয়েছে সাতক্ষিয়ায় বিমানবন্দর নির্মাণ, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন ও সৌন্দর্যবর্ধন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু এবং ভোমরা স্থলবন্দরে প্রয়োজনীয় সেবা অবকাঠামো স্থাপনের দাবি। এ সময় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দেবহাটা ও শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী ইছামতি, কালিন্দী ও মাদার নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়। কমিটির দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে বিস্তীর্ণ এলাকার জনপদ ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম ফারুক, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ, বাংলাদেশের ফিফা এলিট রেফারি তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামানসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। দাবিপত্রে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ আবুল কালাম বাবলা এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান স্বাক্ষর করেন। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ আবুল কালাম বাবলা এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত দাবিপত্রে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। তারা সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও নাগরিকবান্ধব জেলা গড়ে তুলতে দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিটির সহ সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড়।