মোঃ আহাজ উদ্দীনঃ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বেলী গ্রামে সোনার বাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ করেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাল্যবিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের স্টাফ মোখলেছুর ও আক্তারুল, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার ইবাদুল ইসলাম এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মেয়ের বাবা বাল্যবিয়ের আয়োজনের বিষয়টি স্বীকার করলে তাকে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় পরবর্তীতে বাল্যবিয়ে দিলে আইনানুগ শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে ওই অভিযান শেষে দুপুরে জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির কাছে খবর আসে, বিয়ে বন্ধের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়িতে আবারও বিয়ের প্রস্তুতি ও অতিথিদের দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছে। পরে কমিটির নির্দেশনায় সাংবাদিক মেহেদী নেওয়াজ সোহাগ, ইউপি দফাদার ইবাদুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজনের সত্যতা পান।
এ সময় মেয়েটিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, সে নানার বাড়িতে গেছে। বিষয়টি কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরুন্নাহার এবং কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রিমুকে জানানো হয়। পরে পুলিশের এসআই ফয়সাল ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের বাবাকে ডাকলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর মেয়েটিকে হেঁটে বাড়িতে ফিরতে দেখা যায়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়,তার বিয়ে হয়নি। তবে এক ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে এবং ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিলে সে আত্মহত্যা করবে বলে জানায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ইউএনও আরিফুল ইসলামের পরামর্শে মেয়েটিকে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা খাতুনের দায়িত্বে রাখা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো ধরনের বিয়ের আয়োজন না করার বিষয়ে পরিবারের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উলেখ্যঃ প্রকাশ্যে ১০শ্রেণী ছাত্রী বিবাহ দিলে আইনের আওতায় পড়ে এবং গোপলে একাধিক ৭/৮শ্রেণী ছাত্রী বাল্যবিবাহ দিলে আইনের ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে কিন্তু কেন