শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline :
কুখরালী আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শত শত কেজি সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ: তদন্ত ঠেকাতে দৌড়ঝাপ শুরু সাতক্ষীরায় সরকারি বই বিক্রি: মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে শিক্ষা অফিসার সাতক্ষীরায় মাদ্রাসা সুপার ও এবতেদায়ী সুপারের বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ: শাস্তির দাবি কালিগঞ্জে নারী স্বাস্থ্যকর্মীর শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ইরানে বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে আজ নির্বাচনি ইশতেহারে জ্বালানি খাতের ১৩ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবি ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ঘোষণা সন্ধ্যায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় নির্বাচন, যানজটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরার আইনজীবী হাসনা হেনা খানের দাফন সম্পন্ন
Notice :
'সাপ্তাহিক সূর্যের আলো' পত্রিকা সম্প্রতি চালু হতে যাচ্ছে অনলাইন সংস্করণ surjeralo.net। উক্ত পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে কাজ করতে ইচ্ছুক কিছু মেধাবী, সাহসী ও উদ্যোমী সংবাদকর্মী আবশ্যক। বিস্তারিত - ০১৭৫৪-২৪১৩৮৮, ০১৭৬৭-৪১৫১৩১, ০১৭১২-৩০৩৪১৫।

কুখরালী আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শত শত কেজি সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ: তদন্ত ঠেকাতে দৌড়ঝাপ শুরু

মো: শরিফুল ইসলামঃ / ৬৪ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
madrasa

 

*অপকর্ম ঢাকতে ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রচারের অভিযোগ;
*তদন্তে নেমেছে শিক্ষা অফিস,
*দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি অনিবার্য

মো: শরিফুল ইসলামঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুখরালী এলাকায় অবস্থিত কুখরালী আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির সুপার জাহাঙ্গীর মোর্তেজা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নতুন ও পুরোনো পাঠ্যবই কেজি দরে ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তিনি নিজের দায় এড়াতে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ বই সরিয়ে নেওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা বাধা দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন শ্রেণির নতুন বইয়ের পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০০ কেজি পুরোনো বই বিক্রি করা হচ্ছিল।
ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার জাহাঙ্গীর মোর্তেজা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করে বলেন, “প্রতি বছরই পুরোনো বই বিক্রি করা হয়। এতে আগে কোনো সমস্যা হয়নি।” অন্যদিকে এবতেদায়ী শাখার সুপার মহিউদ্দিন জানান, সুপারের নির্দেশেই তিনি বইগুলো ওজন করে বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত পাঠ্যবই বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতি এবং ফৌজদারি মামলার মুখোমুখিও হতে পারেন অভিযুক্তরা।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা অনিয়ম চলে আসছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের পর এবার সরকারি বই বিক্রির ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও বিক্রি গুরুতর অপরাধ। তাই এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, “সরকারি বিনামূল্যের বই বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দুর্নীতিবাজ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়ে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
add
add