শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
কুখরালী আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শত শত কেজি সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ: তদন্ত ঠেকাতে দৌড়ঝাপ শুরু সাতক্ষীরায় সরকারি বই বিক্রি: মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে শিক্ষা অফিসার সাতক্ষীরায় মাদ্রাসা সুপার ও এবতেদায়ী সুপারের বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ: শাস্তির দাবি কালিগঞ্জে নারী স্বাস্থ্যকর্মীর শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ইরানে বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে আজ নির্বাচনি ইশতেহারে জ্বালানি খাতের ১৩ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবি ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ঘোষণা সন্ধ্যায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় নির্বাচন, যানজটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরার আইনজীবী হাসনা হেনা খানের দাফন সম্পন্ন
Notice :
'সাপ্তাহিক সূর্যের আলো' পত্রিকা সম্প্রতি চালু হতে যাচ্ছে অনলাইন সংস্করণ surjeralo.net। উক্ত পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে কাজ করতে ইচ্ছুক কিছু মেধাবী, সাহসী ও উদ্যোমী সংবাদকর্মী আবশ্যক। বিস্তারিত - ০১৭৫৪-২৪১৩৮৮, ০১৭৬৭-৪১৫১৩১, ০১৭১২-৩০৩৪১৫।

সাতক্ষীরায় সরকারি বই বিক্রি: মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে শিক্ষা অফিসার

মোঃ শরিফুল ইসলামঃ / ১৭০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
kukhrali-sat

সাতক্ষীরার কুখরালী এলাকায় অবস্থিত আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সুপার জাহাঙ্গীর মোর্তেজার বিরুদ্ধে চলতি শিক্ষাবর্ষের নতুন বইসহ পূর্ববর্তী বছরের বই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এবতেদায়ী শাখার সুপার মহিউদ্দিনের সম্পৃক্ততার কথাও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ বই সরিয়ে নেওয়ার সময় বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। পরে স্থানীয়রা বাধা দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের বিভিন্ন শ্রেণির নতুন বইয়ের পাশাপাশি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০০ কেজি পুরোনো বই এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার জাহাঙ্গীর মোর্তেজা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার না করে বলেন, “প্রতি বছরই পুরোনো বই বিক্রি করা হয়, এতে আগে কোনো সমস্যা হয়নি।” অন্যদিকে এবতেদায়ী সুপার মহিউদ্দিন জানান, সুপারের নির্দেশেই তিনি বইগুলো ওজন করে বিক্রি করেছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য বই বিক্রি করা দেশের বিদ্যমান আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে পারেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন অনিয়ম চলে আসছে—নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে এখন সরকারি বই বিক্রিও প্রকাশ্যে ঘটছে।

এতে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও বিক্রি একটি গুরুতর অপরাধ। তাই এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তারা উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন বলেন, “সরকারি বিনামূল্যের বই বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় এমন অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যেতে পারে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
add
add