সাতক্ষীরার কুখরালী এলাকায় অবস্থিত কুখরালী আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সুপার জাহাঙ্গীর মোর্তেজার বিরুদ্ধে সরকারি বিনামূল্যে বিতরণের নতুন বইসহ আগের শিক্ষাবর্ষের বই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এবতেদায়ী সুপার মহিউদ্দিনের সম্পৃক্ততার কথাও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোর প্রায় ৬টার দিকে মাদ্রাসা থেকে ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ বই পাচারের সময় বিষয়টি নজরে আসে এলাকাবাসীর। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ শুরু করলে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন শ্রেণির নতুন বই এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০০ কেজি পুরোনো বই এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল।
অভিযুক্ত সুপার জাহাঙ্গীর মোর্তেজা অভিযোগ অস্বীকার না করে বরং বলেন, “প্রতি বছরই মাদ্রাসার পুরোনো বই বিক্রি করা হয়, এতে আগে কখনও কোনো সমস্যা হয়নি।” অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনও বই বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সুপারের নির্দেশেই তিনি বইগুলো ওজন করে বিক্রি করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম চলছে—নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে এখন সরকারি বই বিক্রিও হচ্ছে প্রকাশ্যে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি বিনামূল্যের বই আত্মসাৎ ও বিক্রি একটি গুরুতর অপরাধ।
এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।