অনলাইন ডেক্সঃ বিজেপি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা সঙ্ঘের সহযোগী সংগঠনগুলির পদাধিকারীদের কাছে ডায়েরি খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও কর্মসূচির বিশদ বিবরণ ও সিদ্ধান্ত নিজের নিজের ডায়েরিতে সবিস্তার লিখে রাখেন তাঁরা। ডায়েরি নিখোঁজ! খোঁজ খোঁজ রব পড়েছে। থানায় কোনও নিখোঁজ ডায়েরি অবশ্য হয়নি। কিন্তু ঘুম ছুটেছে অনেকের। কারণ, এ যে সে ডায়েরি নয়। দেশের শাসকদলের অন্যতম সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদাধিকারীর ডায়েরি! বিজেপির সাংগঠনিক গতিবিধি এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কি লিপিবদ্ধ ছিল তাতে? দলের তরফে এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। কিন্তু নিউটাউন কনভেনশন সেন্টার থেকে কী করে গায়েব হয়ে গেল সেই হলুদ ডায়েরি, সে রহস্য এখনও ভেদ করা যায়নি। গত কয়েক মাস ধরে গোটা দেশেই বিজেপির নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ অভিযান চলছে। কর্মসূচির পোশাকি নাম ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’। গত ১৬ অগস্ট নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে তেমনই এক প্রশিক্ষণ শিবির ছিল। রাজ্য এবং জেলা স্তরের বিভিন্ন পদাধিকারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতানেত্রীদের ডাকা হয়েছিল। গোটা দেশে এই প্রশিক্ষণ অভিযানের সামগ্রিক দায়িত্ব যাঁর হাতে, সেই সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশ নিজেই এসেছিলেন প্রশিক্ষণ দিতে। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, তিন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিংহ। এই রকম ওজনদার কর্মসূচির মাঝেই শিবপ্রকাশের ডায়েরি উধাও হয়ে গিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। বিজেপি, আরএসএস বা তার সহযোগী সংগঠনগুলির পদাধিকারীদের কাছে ডায়েরি খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও কর্মসূচিতে বক্তারা কী বললেন, কী কী পরামর্শ বা প্রস্তাব উঠে এল, কী সিদ্ধান্ত হল, পরবর্তী পদক্ষেপ কী, ইত্যাদির বিবরণ নিজের নিজের ডায়েরিতে সবিস্তার লিখে রাখেন বিজেপি ও সঙ্ঘের পদাধিকারীরা। অনেক সময়ে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথাও সেখানে লিখে রাখা হয়, যা ঘোষিত হয়নি, পরে হবে। শিবপ্রকাশের ডায়েরিতেও তেমন বিবিধ বিষয়ই যে নথিবদ্ধ ছিল, সে বিষয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সংশয় কমই। শিবপ্রকাশ সেই তিন-চার জন শীর্ষ বিজেপি পদাধিকারীর একজন, যাঁরা গোটা দেশে দলের সংগঠন সামলান। তাঁর ডায়েরিতে শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে নয়, অন্যান্য রাজ্যের বা কেন্দ্রীয় স্তরের সাংগঠনিক বিষয়ও নথিবদ্ধ থাকার সমূহ সম্ভাবনা। এই ঘটনার কথা রাজ্য বিজেপির অধিকাংশ নেতাই জানেন না। শীর্ষ স্তরের মাত্র কয়েক জন নেতারই কর্ণগোচর হয়েছে এই খবর। তাঁরা ডায়েরিটি খুঁজে বার করতে তৎপরও হয়েছিলেন। কিন্তু দিন দশেক কেটে গেলেও শিবপ্রকাশের হলুদ ডায়েরির খোঁজ এখনও মেলেনি। নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারের আধিকারিক সাগরিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাকে বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, হলুদ রঙের একটি ডায়েরি পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা খুঁজে দেখার নির্দেশ দিই। তিনটি ডায়েরি পাওয়া গিয়েছিল। তার মধ্যে একটা হলুদ রঙেরই ছিল। সেগুলি আমরা রাজ্য বিজেপির এক প্রতিনিধির হাতে তুলে দিয়েছি।’’ তবে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে হলুদ ডায়েরিটি পাওয়া গিয়েছে, সেটি শিবপ্রকাশের নয়। কোনও বাঙালি পদাধিকারীর। কারণ তাতে সবই বাংলায় লেখা। ডায়েরি নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ কেউ হননি। কনভেনশন সেন্টারের ঠিক কোন হল বা ঘর থেকে ডায়েরিটি তাঁর হাতছাড়া হয়েছে, সে বিষয়েও শিবপ্রকাশ নিশ্চিত হতে পারেননি। মঞ্চে ওঠার আগে যে ঘরে বসেছিলেন, নাকি মঞ্চে থাকাকালীন, নাকি মধ্যাহ্নভোজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা? তিনি নিশ্চিত নন। প্রতিটি জায়গাতেই তন্নতন্ন করে খোঁজ চালানো হয়েছে। কিন্তু ডায়েরি মেলেনি। ডায়েরিতে কোনও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ সাংগঠনিক তথ্য থেকে থাকলে তা বেহাত হওয়া কতটা চিন্তার হতে পারে, সে বিষয়ে বিজেপির অন্দরে চর্চা চলছে।
সুত্রঃ আনন্দ বাজার