জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ১৪ নম্বরে ইতিহাস পরিবহনের এক বাসচালক কর্তৃক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে পরিবহনটির পাঁচটি বাস চার দিন ধরে ক্যাম্পাসে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যস্থতায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার বিনিময়ে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি জাবির অর্থনীতি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে আমি ক্যাম্পাস থেকে বাসায় যাচ্ছিলাম। সে সময় শুরুতে গাবতলীতে আমার সঙ্গে ওই বাসচালক খারাপ আচরণ করে এবং টেনেহিঁচড়ে বাসের ডিপোর পেছনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে মিরপুর ১৪-তে এসেও সে আমাকে মারধর করে, হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বিষয়টি আমি আমার বিভাগের বন্ধুদের জানালে তারাসহ ওই বাসচালকের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসের গেটে বাসগুলো আটক করি। আমার প্রধান দাবি ছিল, ওই বাসচালককে আমাদের সামনে হাজির করা এবং শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু চার দিন হয়ে গেলেও তারা সেটা পারেনি। এখন বাসের মালিকপক্ষ আমার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং আমার চিকিৎসার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে। তাই বাসগুলো ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সময় কত টাকার বিনিময়ে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাকি কথা পরে বলবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ইতিহাস পরিবহনের মিরপুর সড়কের ম্যানেজার মো. জুয়েল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং তাকে মারা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তিনি যদি টাকা নিয়ে বাস ছেড়ে দেবেন তাহলে সেটা আমাদের প্রথমেই জানিয়ে দিতেন। চার দিন ক্যাম্পাসে পাঁচটি বাস কেন আটকে রাখা হলো? এটা তো আমাদেরকে হয়রানি ও জোরপূর্বক চাঁদাবাজির মতো হলো। আমাদের টাকাও গেল, লোকসানও হলো। সব অন্যায় আমাদের ওপরই হয়। কত টাকার বিনিময়ে বাসগুলো ছাড়া হয়েছে, জানতে চাইলে মো জুয়েল বলেন, ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বাসগুলো ছেড়ে দিয়েছে। তারা আরও বেশি টাকা চেয়েছিল। সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শিক্ষার্থী ও বাসের মালিকপক্ষকে নিয়ে বিকেলে আলোচনায় বসি। ভুক্তভোগী তাকে মারধরের পরীক্ষা করানো এবং তার ল্যাপটপ, মোবাইলের ক্ষতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে মালিকপক্ষ তাকে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে। এর ভিত্তিতে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাসের মালিকপক্ষ অভিযুক্তকে পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করবে বলে জানিয়েছে।