নেত্রকোনা প্রতিনিধি: অনুপ্রবেশের মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার জটিলতায় নেত্রকোনা জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন ভারতের তিন নাগরিক। কারাগার কর্তৃপক্ষ ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি পাঠালেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। এদিকে ট্রানজিট সেন্টার না থাকায় খালাস পাওয়া এসব নাগরিককে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বন্দীরা হলেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা জেলার সদর থানার পাঁচগাঁও গ্রামের মৃত জংশনের ছেলে রাজু মারাক ওরফে সঞ্জুক, একই জেলার গিটিংরে গ্রামের জিকুব আর মারাকের ছেলে সেঙ্গাম এম সাংমা (২৪) এবং মহাদেব থানার বনবেড়া গ্রামের মৃত মদন মারাকের ছেলে পিন্টু সাংমা। সূত্র জানায়, রাজু মারাককে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে। পরে কলমাকান্দা থানায় অনুপ্রবেশের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই আদালত তাঁকে খালাস দেন। তবে এরপরও তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। পিন্টু সাংমাকে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনুপ্রবেশের মামলায় কলমাকান্দা থানার পুলিশ ২০২৩ সালের ৭ মে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠায়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৬ মে আদালত তাঁকে খালাস দেন। এরপরও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে বাঘমারা জেলার সদর থানার গিটিংরে গ্রামের সেঙ্গাম এম সাংমাকে কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আটক করা হয়। অনুপ্রবেশের মামলায় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আদালত তাঁকে খালাস দেন। তবে তিনিও এখনো কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী খালাস পাওয়া বন্দীদের দেশে ফেরত পাঠাতে কারাগার কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি পাঠায়। এরপর ভারতীয় দূতাবাস বন্দীদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণের মাধ্যমে তাঁদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। নেত্রকোনা জেলা কারাগারের সুপার মো. আব্দুল্লাহ ইবনে তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, ‘ভারতীয় তিন নাগরিক অনুপ্রবেশের মামলায় খালাস পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতীয় দূতাবাস খালাস পাওয়া বন্দীদের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণের মাধ্যমে ফেরত নেবে।’