মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
Headline :
সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশু বাল্যবিবাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাল্যবিবাহমুক্ত কালীগঞ্জ উপজেলায় শিশুবিবাহ, মুচলেকা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৭ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল যন্ত্রাংশ জব্দ সাতক্ষীরার রাজার বাগান দারুস সালাম মসজিদে ইসলামিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনা বিভাগীয় কমিউনিটি পুলিশিং সুধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতাপনগরে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রিয়াছাত আলীর পক্ষে বিশাল মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধহাটায় সিঙ্গেল ডিজিট সংবর্ধনা ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সহযোগিতায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ, চাচার জরিমানা ৫ হাজার টাকা,মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন পিতা ও মা সাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ! ঘূর্ণিঝড় হয়ে ডাঙায় ঝাঁপাতে পারে আগামী সপ্তাহে, দুর্যোগের পূর্বাভাস কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে খেলার মাঠ না থাকা গাবুরায় মি‌নিবার ফুটব‌লের ফাইনাল অনু‌ষ্ঠিত।
Notice :
'সাপ্তাহিক সূর্যের আলো' পত্রিকা সম্প্রতি চালু হতে যাচ্ছে অনলাইন সংস্করণ surjeralo.net। উক্ত পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে কাজ করতে ইচ্ছুক কিছু মেধাবী, সাহসী ও উদ্যোমী সংবাদকর্মী আবশ্যক। বিস্তারিত - ০১৭৫৪-২৪১৩৮৮, ০১৭৬৭-৪১৫১৩১, ০১৭১২-৩০৩৪১৫।

সরকারি হাসপাতালে অনেক পরিকাঠামো নেই, প্রাণ বাঁচাতে চোরবাগানে জখমদের অন্যত্র স্থানান্তর! জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

অনলাইন ডেক্সঃ স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার। স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে অনেক পরিকাঠামো এখনও নেই। সেই কারণেই গত ১৭ অক্টোবর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে জখমদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছিল। মঙ্গলবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালে ‘অ্যালার্জি টেস্ট’ হয় না। তাঁর সরকার ছ’মাস হল ক্ষমতায় এসেছে। হাসপাতালের পরিকাঠামো ঠিক করতে অন্তত দু’বছর লাগবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগানের মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে শনিবার। ঘটনাস্থল থেকে জখম অবস্থায় অনেককে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ১৪ জনকে সেখান থেকে বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে চিকিৎসকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন। মঙ্গলবার নবমীর সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। জানান, মৃত্যু ঠেকানোই ছিল সরকারের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চোরবাগানের আহতদের দামি হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছিলেন। আমরা সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিষেবা দিতে চেয়েছি রোগীদের। কলকাতা মেডিক্যালে যে পরিষেবা পাওয়া যাবে, তার চেয়ে ভাল ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে বলেই আমরা রোগীদের সেখানে পাঠাই, যাতে ১৯টা মৃত্যুর পর আর একটাও প্রাণহানি না হয়। আমরা খুশি যে চিকিৎসা শুরুর পর আর কারও মৃত্যু ঘটেনি। অনেক সময় চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে। এ ক্ষেত্রে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে ব্যর্থতার কিছু নেই।’’
ভুয়ো ভিডিয়োতে লাইক, শেয়ার করলেও জামিনঅযোগ্য মামলা! ‘বাংলাদেশের যোগ’ দেখছেন শুভেন্দু, বালুরঘাটে ধৃত তিন
চোরবাগানে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে জেলা সফরে শুভেন্দু! চেকের সঙ্গে চাকরিরও আশ্বাস, কটাক্ষ বিরোধীদের
বেসরকারি হাসপাতালের মতো পরিষেবার বন্দোবস্ত সরকারি হাসপাতালে করতে তাঁর আরও কিছুটা সময় লাগবে, জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা বেসরকারির সমকক্ষ করতে গেলে আমাদের দু’বছর লাগবে। পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও অ্যালার্জি টেস্ট করা যায় না। মুম্বইতে পাঠাতে হয়। আমি নিজে তার ভুক্তভোগী। তার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা করছি।’’ চোরবাগানের ঘটনার পর কলকাতার বড় পুজোগুলিতে সরকারের মেডিক্যাল টিম সক্রিয় রয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, বহু ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মী পুজোর ছুটি বাতিল করে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী কৃতজ্ঞ। মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার বলেন, “সরকারি হাসপাতালের যে দুরবস্থা, সেটা গত সরকারের আমল থেকেই রয়েছে। বহু জিনিসের মধ্যে পরিকাঠামোর অভাবও রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর বহু প্রয়োজনীয় ওষুধের জোগান হঠাৎ করেই কমে গিয়েছে। এটা আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানিয়েওছিলাম এবং সেটি তিনি মেনেও নিয়েছেন। গত সরকারের থেকেও নতুন সরকার আসার পর ব্যবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সাধারণ ওষুধও পাওয়া যায় না এখন। আগের সরকারের আমলে সেটা অন্তত পাওয়া যেত।” তিনি আরও বলেন, “নারায়ণস্বরূপ নিগমের পাশে বসে মুখ্যমন্ত্রী যে বৈঠকটি করেছেন, আমরা তাতে হতাশ এবং নিন্দা করি। নারায়ণ গত সরকারের আমলে নিজেই অনেক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁকেই পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দু’বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঠিক করবেন?” অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স (এএইচএসডি)-র সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, “সে দিন পুজো মণ্ডপে অতগুলো মানুষের মৃত্যুটি ছিল অভূতপূর্ব। তেমনই সরকারি হাসপাতাল থেকে কাউকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করাটাও অভূতপূর্ব। আমরা একটি ব্যাখ্যা পেয়েছিলাম যেখানে আহতদের বাড়ির লোকেদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা কোথায় চিকিৎসা করাতে চান সেই মতো কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করে দেবেন। অন্য দিকে, জুনিয়র ডাক্তারদের থেকে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি যেখানে তাঁরা বলেছেন, তাঁদের ইউনিট এবং বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ মতো তাঁরা আহতদের বাইপাশের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। দু’জনকে এসএসকেএম হাসপাতালেও পাঠানো হয়েছিল।” উৎপল আরও বলেন, “রাজ্য সরকার যদি এটা স্বীকার করে নেয় যে আমাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই রকম বেশি সংখ্যক রোগী চিকিৎসা করার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই, তা হলে আমরা আশা রাখব সরকরার যেন তাড়াতাড়ি সেটি পুরণ করার চেষ্টা করে। আজকে এই ঘটনায় তারা বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করলেও, পরবর্তী সময় যদি আবার এ রকম কোনও ঘটনা ঘটে তখন তারা কী করবে? তাদের তরফ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা উচিত। সেই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা উচিত কোন রোগীকে আমরা সরকারি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করতে পারব আর কাদের আমরা অন্য কোথাও স্থানান্তর করব। তা না হলে আগামী দিনে এই নিয়ে সমস্যা হবে।” তাঁর সংযোজন, “যে সংখ্যক রোগীকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অনেককেই আজকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, তাঁদের গুরুতর কিছু হয়েনি। সরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা করা যেত কি না তা একবার সরকার ভেবে দেখতে পারত।” স্বাস্থ্য ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র বলেন, “প্রতিশ্রুতি তো অনেক হল। পূর্বতন সরকারও ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য ক্ষমতায় এসে এই ধরনের কথা প্রায়ই বলত। এই সরকারের কাছেও তাই শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, আমরা ভাল কিছু দেখতে চাই যা সব মানুষের জন্য কল্যাণকর।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
add
add