স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে অপহরণ করে চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, একটি পিস্তল সদৃশ বস্তু, ১২৭টি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সাতটি মোবাইল ফোন, একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, একটি হুক্কা, একটি ব্যাংক চেক বই এবং কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-১০ জানায়, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন (৩৫) গত ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুনকুটিয়া চৌরাস্তা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার একটি টিনশেড ঘরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে তার কাছে থাকা ৪৫ হাজার টাকা এবং ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে রাখা হয়। জ্ঞান ফেরার পর আবারও চাঁদা দাবি করলে তিনি বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ১২ জুলাই পেনাল কোডের ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩২৮/৫০৬/৩৪ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১৪ জুলাই বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে র্যাব-১০-এর সদর কোম্পানির একটি দল শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মামলার চার আসামি—মো. সিয়াম (২৩), মো. রাব্বি হাসান (২৬), মো. সোহাগ (৩০) এবং মো. রাসেল ওরফে নাছির (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১০ আরও জানায়, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা, প্রতারণাসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।