কলকাতা প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে ফের উপনির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। ভারতের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা আসনেও উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। আজ সোমবার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর তামিলনাড়ুর দুটি আসন—মাদুরান্তাকম ও ধারাপুরম, পুডুচেরির একটি আসন—থাট্টানচাভাদি এবং পশ্চিমবঙ্গের দুটি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। একই দিনে আসামের নগাঁও লোকসভা আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব আসনের ফল ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর। পশ্চিমবঙ্গের যে দুটি আসনে উপনির্বাচন হবে, সেগুলো হলো পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর।
২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে জয় পেয়েছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পবিত্র করকে পরাজিত করেন। একই নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনেও জয় পান শুভেন্দু।
অন্যদিকে রেজিনগর আসনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এজেউপি)-র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তিনি বিজেপির প্রার্থী বাপন ঘোষকে পরাজিত করেন। নওদা আসনেও জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে ভবানীপুর আসন নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম আসন থেকে পদত্যাগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। একইভাবে নওদা আসন নিজের কাছে রেখে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেন হুমায়ুন কবীর। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিধানসভা আসন শূন্য হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পূজার আগেই তাই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই আসনে নির্বাচনী আচরণবিধিও কার্যকর হয়েছে। তবে এবারের উপনির্বাচনে বিশেষ নজর থাকবে রেজিনগর আসনের দিকে। সেখানে তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রার্থী হন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা গেছে, মমতা ব্যানার্জি চাইলে তিনি রেজিনগর আসনটি তাঁর জন্য ছেড়ে দিতে পারেন।