রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জালদিয়া গ্রামে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,জেলার শেষ প্রান্তে অজপাড়া গায়ে এই বিদ্যালয়টি সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই প্রধান শিক্ষকের মন গড়া নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ।
দলীয় নীতিমালা ও আওয়ামী লীগের মিনী ক্লাব হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে এই বিদ্যালয়টি , প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে ক্লাস কক্ষে ১৭ বছর পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতি,যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপরে । একাধিক গণপিটেশন ও অভিযোগ করেও সমাধান না মিলায় বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন একাধিক শিক্ষার্থীকে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০ জন, ২৫-২৬ সালে পাশের হার জিরো । ভিত্তিপ্রস্থ উদ্বোধন এর সাইনবোর্ডে এখনো রয়েছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর উদ্বোধনীও ব্যানার,অপসারণ করার জন্য স্থানীয়রা উদ্যোগ নিলেও প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নার বাধার মুখে ব্যর্থ হয় এলাকাবাসী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো ঝুলছে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ব্রাজ করছে । ৩০ আগস্ট জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্না জানায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ত্রিশ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত আছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক । জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সুন্দরী রানী মালো এর অভিভাবক দিপালী রানী মালো অভিযোগ করে বলেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নার নেতৃত্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস কক্ষে কোচিং বাণিজ্য করা হতো সেখানে ১হাজার ৫০০শত টাকা ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হতো, টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেয়া হলেও এসএসসি পরীক্ষায় ফরম ফিলাপের অজুহাতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা অর্থ আদায়ের বিনিময়ে ২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এলাও করা হয়,অর্থের বিনিময় । একই অভিযোগ বিথী নামে এক এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অভিভাবকের তিনি বলেন ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য নিয়েছে ১হাজার৫০০শত টাকা, এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের অজুহাতে নিয়েছে পাঁচ হাজার টাকা, ৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাশের হার স্বর্ণ ।
জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্না বলেন অতিরিক্ত ক্লাস করানো হয়েছে বিষয়টি সহকারী শিক্ষকরা করেছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক । প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্না অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়লে রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে ফোন করিয়ে হুমকির মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে, পুনরায় প্রধান শিক্ষক অর্থের বিনিময় বিষয়টি ধামাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন সংবাদ কর্মীদের । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন প্রধান শিক্ষকের ইচ্ছা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসে এবং তার ইচ্ছার উপরেই নির্ভর করে বিদ্যালয় এর ছুটি ঘোষণা, কখনো বেলা ১২টা ও ১টার পরে বিদ্যালয়টি করা হয় ছুটি ঘোষণা, প্রধান শিক্ষকের অসৎ আচরণের কারণে একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ভর্তি করেছে অন্য বিদ্যালয় । জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এর ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল মাজেদ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নার দায়িত্ব অবহেলার কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, নিয়মিত ও সঠিক টাইমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসত আচরণ, অভিভাবকদের নিকট হতে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ক্লাস কক্ষে কোচিং বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে বলে মন্তব্য করেন সাবেক সভাপতি । এ বিষয়ে এলাকাবাসী সহ ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল মাজেদ মোল্লা প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে উদ্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান । জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কাগজে কলমে নয় জন শিক্ষক থাকলেও একজন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানায় স্থানীয়রা, তবে এখনো বিদ্যালয় থেকে নয় জনের বেতন উত্তোলন হচ্ছে বলে জানাগিয়েছে । এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে নয় শিক্ষকের বেতন উত্তোলনের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্না । সুলতানপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন মিয়া, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রধান শিক্ষক বলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের নিকট হতে ফরম ফিলাপের নামে উবৃত্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে সিঙ্গাপুর প্রবাসী আরিফুজ্জামান এর নির্দেশে জজ এবং এসএসসি পরীক্ষায় ছয় জন শিক্ষার্থীকে এলাও করার বিষয়টি আরিফুজ্জামানের নির্দেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, বলে বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন ওযার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন । এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন তিনি ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছে, শিক্ষার মানসম্পন্ন অগ্রগতি দেখতে এক মাস পর আবারও বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হবে, তিনি বলেন জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত তবে অষ্টম শ্রেণি ও নবম শ্রেণী এমপিও ভুক্ত নয় । স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের দাবি বিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শিক্ষক উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল,শ্রেণিকক্ষে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ সহ সব ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে । একই সঙ্গে শিক্ষার মান ফিরিয়ে এনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনার দাবি এলাকাবাসীর, তিনি বলেন শিক্ষার মান ফিরিয়ে এনে সব ধরনের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।