সাতক্ষীরার মানুষ শান্তিপ্রিয় ও ইসলাম প্রিয়,
মুহাদ্দিস মাও আব্দুল খালেক।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা পৌরসভা ১ নং ওয়ার্ডের আয়োজনে জুলাই শহীদদের স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকাল ৫টায় আমতলা মোড়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মনা এবং সঞ্চালনা করেন ১নং ওয়ার্ডের আমীর মোঃ জিয়ারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলার উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল আলী, জেলা সেক্রেটারী মাওঃ আজিজুর রহমান, জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, সাতক্ষীরা জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক, পৌর নায়েবে আমির ফখরুল হাসান লাভলু, পৌর আমীর মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও পৌর সেক্রেটারি মোঃ খোরশেদ আলম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সাতক্ষীরা সর্বদা শান্তিপ্রিয় ও ইসলামপ্রিয় মানুষের আবাসভূমি। এখানে দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করে। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের ওপর জোর দিয়ে বলেন, একটি দেশে একক দলের শাসন কাম্য নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন। সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে—এটাই সাতক্ষীরার মানুষ প্রত্যাশা করে। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন, কোনো একটি দল বা ব্যক্তি এখানে স্বেচ্ছাচারিতা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও ইজ্জত রক্ষা করতে হবে। সাতক্ষীরাকে চাঁদামুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কেউ চাঁদা দাবি করলে তার বিরুদ্ধে জনগণ ও সংগঠনের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণকে কষ্ট দেওয়া কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনায় সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি সাতক্ষীরাকে সুন্দর ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশেষত, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচা রাস্তার সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
অন্যান্য অতিথিরা তাদের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, এই অভ্যুত্থান না হলে বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত আকাশে শ্বাস নিতে পারত না। বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অনেক নেতা দেশে ফিরে আসতে পারতেন না। আর যেসব নেতা দেশে ছিল তারা বাড়িতে থাকতে পারতো। তারা জুলাই বিপ্লবকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সমতুল্য আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলার তরুণ-দামাল-কিশোররা দ্বিতীয়বারের মতো দেশকে স্বাধীন করেছে। জাতি চিরকাল এই শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে এবং ইতিহাসে তাদের স্মরণ রাখবে। জামায়াতে ইসলামী জুলাই শহীদদের ঘটনাবলী সংগ্রহ করে রাখারও ঘোষণা দেন।