অনলাইন ডেক্সঃ দিল্লিতে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ব্রিক্স সম্মেলন। তার আগে শুক্রবার বিকেল থেকে দফায় দফায় পার্শ্ববৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সারলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গেও। ঘটনাচক্রে, এই দুই রাষ্ট্রই বর্তমানে আমেরিকার দুই প্রধান ‘প্রতিপক্ষ’। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে অতীতে বার বার ভারতের উপরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি, ‘জরিমানা’ বাবদ ভারতের উপরে মাঝে শুল্কও চাপিয়েছিল আমেরিকা। তবে ভারত শুরু থেকেই বলে আসছিল, যেখান থেকে তেল কেনা লাভজনক হবে, সেখান থেকেই জ্বালানি কেনা হবে। শুক্রবার মোদী-পুতিন বৈঠকের পর আবার সেই বার্তাই দিয়ে রাখল ভারত। শুক্রবারের বৈঠকে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের পাশাপাশি আলোচনা হল জ্বালানি নিয়েও। বিদেশ মন্ত্রক পরে জানায়, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক সারেন মোদী। প্রত্যাশিত ভাবেই বৈঠকে উঠে আসে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কথা। পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তার কথাও উঠে আসে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এ-ও স্পষ্ট করে দেন, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সংঘাতের পক্ষপাতী ভারত। এই একই কথা পুতিনকেও জানিয়েছেন মোদী। রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক টানাপড়েন দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশেষ করে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পরে দু’দেশের চাপানউতর আরও বেড়েছে। অন্য দিকে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলে আসছে আমেরিকার। এই অবস্থায় ব্রিক্স সম্মেলন শুরুর আগে রুশ এবং ইরানি রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদীর বৈঠক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিটের বৈঠক সেরে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একই গাড়ি চেপে মোদী পৌঁছোন ব্রিক্স বিজ়নেস ফোরামে। সেখানে অন্য রাষ্ট্রনেতারাও ছিলেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ানের হাত ধরে ব্রিক্স বিজ়নেস ফোরামে প্রবেশ করেন মোদী। ওই মঞ্চ থেকেও আমেরিকাকেও নিশানা করেন পুতিন-পেজ়েশকিয়ান। বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিরুদ্ধে সরব হন তাঁরা। উভয়েরই মূল বক্তব্য, কোনও দেশের অর্থনীতিকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী সেখানে নিরাপদ সমুদ্রপথের উপরে জোর দেন। তিনি বলেন, “পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে এবং নাবিকেরা নিরাপদ থাকলে, তবেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উন্নতি হবে। সেই জন্যই অবাধ জাহাজ চলাচল এবং নাবিকদের নিরাপত্তা চায় ভারত।” এ সবের মধ্যে শনিবার দিল্লিতে পৌঁছোচ্ছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-ও। গত ৩১ অগস্ট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও) সম্মেলনেও একত্রিত হয়েছিলেন মোদী, পুতিন, শি, পেজ়েশকিয়ান। সঙ্গে ছিলেন অন্য সদস্য রাষ্ট্রের নেতারাও। এ বার ব্রিক্সে ফের মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন ট্রাম্প। শুল্কের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ব্রিক্স-কে যে তিনি বিশেষ পছন্দ করেন না, তা বার বার বুঝিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দিল্লিতে দু’দিনের এই সম্মেলনে ব্রিক্স দেশগুলি কী সিদ্ধান্ত নেয়, কূটনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপর নজর রাখছে আমেরিকাও।